রোযাদারের করণীয় ও বর্জনীয় বিষয়সমূহ
ramada mobarok
 

রোযাদারের করণীয় আমলসমূহ

*    অধিক পরিমাণে কালেমায়ে তাইয়্যিবাহ পাঠ করা।

*    অধিক পরিমাণে তাওবা ইস্তিগফার করা।

*    আল্লাহ পাকের নিকট বেহেশত পাওয়ার জন্য দু’আ করা।

*    আল্লাহ পাকের নিকট দোযখ থেকে মুক্তির জন্য দু’আ করা।

*    যত অধিক সম্ভব কুরআন শরীফ তিলাওয়াত করা।

*    ২৪ ঘন্টায় কমপক্ষে তিনশত বার দরূদ শরীফ পাঠ করা। এর উর্ধ্বে যত বেশি পাঠ করা যায় তত ভাল।

*    জামাআতের সাথে এবং তাকবীরে উলার সাথে নামায আদায়ের ব্যপারে পুরুষদের খুব বেশি যত্মশীল হওয়া।

*    তারাবীহের জন্য ইশার জামাতের পূর্বেই উপস্থিত থাকা।

*    এতেকাফের নিয়তে অবসর সময়ে মসজিদে অবস্থান করা।

*    সাধ্যানুযায়ী দান খয়রাত করা।

*    খুব বেশি দু’আ করা। কেননা এই মাসে রোযাদার-এর দু’আ ব্যর্থ হয় না। নিজের ঈমান আমলের দৃঢ়তা ও উম্মতের ইসলাহের জন্য দু’আ করা।

 বর্জনীয় বিষয়সমূহ

*    অহেতুক কথা বলা থেকে যত্নের সাথে বিরত থাকা, কঠিন প্রয়োজন ব্যতীত দুনিয়াবী কথা না বলা।

*    সর্বপ্রকার গুনাহ বিশেষত সুদ-ঘুষ আদান প্রদান, টেলিভিশন-সিনেমা দেখা, কু-দৃষ্টি, গীবত, চোখলখোরী, জুয়া, লটারী, বান্দার হক নষ্ট করা ইত্যাদি থেকে বেঁচে থাকা।

*    সরাসরি বা রেডিও, মোবাইল অথবা অন্য কোন যন্ত্রের মাধ্যমে গান-বাজনা-নাচ শোনা ও দেখা থেকে অত্যন্ত মুজাহাদার সাথে পরহেয করা।

*    কোন প্রকার পর্দার হুকুম লঙ্ঘন না করা।

*    কোন গালি-গালাজ না করা এবং কোন প্রকার ঝগড়া-বিবাদ না করা।

*    দাড়ি না মুন্ডানো বা একমুঠের চেয়ে ছোট থাকলে না ছাঁটা।

উপরোক্ত গুনাহসমূহ থেকে খুবই গুরুত্ব ও যত্নের সাথে নিজেকে বিরত রাখতে হবে। অন্যথায় রোযার ফায়দা ও পুরষ্কার লাভ হবে না।

হাদীস শরীফে বর্ণিত হয়েছে, রোযা জাহান্নাম থেকে বাঁচার ঢালস্বরূপ, যতক্ষণ না তা ভেঙ্গে ফেলা হয়। ঢাল ভেঙ্গে ফেলার অর্থ হলো গুনাহে লিপ্ত হওয়া। -মিশকাত শরীফ

হাদীসে আছে ঐ, ব্যক্তি ধ্বংস হোক যে রমযান মাস পেয়েও নিজের গুনাহ মাফ করাতে পারলো না।

 সাহরী ও ইফতার

রোযাদারের জন্য সাহরী খাওয়া ও ইফতার করা সুন্নাত। তেমন কিছু না থাকলে সামান্য খাদ্য খেলে বা কেবল পানি পান করলেও সাহরী ইফতারের সুন্নাত আদায় হবে।

 রোযা ভঙ্গের কারণসমূহ

রোযা স্মরণ থাকা অবস্থায় ইচ্ছাকৃতভাবে নীচের কাজগুলো করলে রোযা ভঙ্গ হয়ে যায় এবং কাযা ও কাফ্ফারা উভয়টি ওয়াজিব হয়-

  1. কোনকিছু খেলে।
  2. কোনকিছু পান করলে। এমন কি ধূমপান করলেও।
  3. স্ত্রী বা স্বামী সহবাস করলে।
  4. গুহ্যদ্বারে যৌণ চাহিদা পূরা করলে। (না’উযু বিল্লাহ)

নীচের কাজগুলো পাওয়া গেলে রোযা ভঙ্গ হয় এবং শুধু কাযা ওয়াজিব হয়; কাফ্ফারা ওয়াজিব হয় না।

  1. ভুলে বা চাপে পড়ে বাধ্য হয়ে কোনকিছু খেলে, পান করলে বা স্ত্রী / স্বামী সহবাস করলে।
  2. নস্যি গ্রহণ করলে।
  3. ইচ্ছাকৃতভাবে মুখ ভরে বমি করলে।
  4. অল্প পরিমাণ বমি আসার পর তা গিলে ফেললে।
  5. কুলি করার সময় পানি গলার ভিতরে ঢুকে পড়লে।
  6. দাঁতে আটকে থাকা ছোলাবুটের সমপরিমাণ বা তার চেয়ে বড় ধরনের খাদ্যকণা গিলে ফেললে।
  7. মুখে পান বা যে কোন খাবার রেখে ঘুমিয়ে পড়ার পর সুবহে সাদেকের পর জাগ্রত হলে।
  8. ইচ্ছাকৃতভাবে আগরবাতি কিংবা অন্য কোন সুগন্ধ দ্রব্যের ধোঁয়া গলধ:করণ করলে বা নাকের মধ্যে টেনে নিলে।
  9. রাত মনে করে সুবহে সাদেকের পর সাহরী খেলে।

10. সূর্যাস্তের পূর্বে সূর্য অস্তমিত হয়েছে ভেবে ইফতার করলে।

যে কোন কারণে রোযা ভেঙ্গে যাওয়ার পরও দিনের অবশিষ্ট সময় রোযাদারের মত (পানাহার ইত্যাদি বর্জন) থাকা ওয়াজিব।

রোজার নিয়ত ও ইফতারের দোয়া

রোযার নিয়ত

ইসলামী দিনপঞ্জী হিসাবে সূর্যাস্তের পর থেকে নতুন দিন আরম্ভ হয়। কাজেই রাতে অথবা দিনে বেলা ১১টার মধ্যে এরকম নিয়ত করবে যে, আমি আজ রোযা রাখলাম। রোযার নিয়তও মুখে উচ্চারণ করে বলা জরুরী নয়।

 ইফতারের সময় পড়ার দু’আ

ক)  হযরত মুআজ ইবনে যাহরাহ থেকে বর্ণিত: তার নিকট (এ কথা) পৌছেছে যে, নবী করীম (স:) যখন ইফতার করতেন তখন এই দু’আ পড়তেন-

উচ্চারণঃ আল্লা-হুম্মা লাকা ছুমতু- ওয়া আলা রিয্ক্বিকা আফতরতু।

অর্থঃ হে আল্লাহ্ তোমার জন্যই রোজা রাখলাম এবং তোমার প্রদত্ত্ব রিজিক দিয়ে ইফতার করলাম।

    আবু দাউদ ১:৩২২, আযকার ১৯০

iftar time

    One Response to "রোযাদারের করণীয় ও বর্জনীয় বিষয়সমূহ"

  1. fahad says:

    When someone died (muslim ) tell us what to do in detail. Like how to handle dead body, wash that dead body janaja, kabar .

Leave a Reply